Important Links







জেএমআইয়ের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক গ্রেপ্তার নকল ও অনুমোদনবিহীন মাস্ক তৈরি

Posted By : Admin    September 30, 2020   

নিজস্ব প্রতিবেদক: নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় জেএমআইয়ের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদিকে নকল ও অনুমোদনবিহীন এন-৯৫ মাস্ক তৈরি ও বাজারজাত করার অপরাধে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত ১ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের ড্রাগ আদালতে জেএমআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

গতকাল জেএমআইয়ের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করে দুদক। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক নুরুল হুদা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েস পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে ২০ হাজার নকল এন-৯৫ মাস্ক আসল দেখিয়ে ১০টি হাসপাতালে সরবরাহ করার অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাক, সিএমএসডির সাবেক উপপরিচালক ও কক্সবাজার মেডিকেলের তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন খানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

অনুমোদনবিহীন এন-৯৫ মাস্ক উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর আদালতে গত ১ সেপ্টেম্বর একটি মামলা করেন। কিন্তু ওই মামলার বিষয়টি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর গোপন রাখে। এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের জন্য মহাপরিচালকের কাছে গেলে তিনি মামলার বাদীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে বাদী মাহবুবের সঙ্গে কথা বললে তিনি তা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করেন। শেয়ার বিজের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি আদালত থেকে মামলার কপি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। আদালতের সংশ্লিষ্টরা মামলার তথ্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করেন।

গত ১০ জুন থেকে দুদক করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

মাস্ক-পিপিই কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ১২ ও ১৩ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া মাস্ক-পিপিই ক্রয় দুর্নীতির অনুসন্ধানে এর আগে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে সিএমএসডির ছয় কর্মকর্তাসহ ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। সরবরাহের নামে অন্যদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

৮ জুলাই মেসার্স জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সমন্বয়কারী (মেডিকেল টিম) মতিউর রহমানকে প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকারী দল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে (সিএমএসডি) সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর ভুলে এন-৯৫ মাস্কের মোড়কে সাধারণ মাস্ক চলে যায়। করোনাভাইরাসের কারণে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন হাসপাতালে সেই মাস্কই সরবরাহ করে সিএমএসডি। কিন্তু এন-৯৫-এর মোড়কে সাধারণ মাস্ক পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ ওঠার পরপরই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় সিএমএসডি। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিজেদের সরবরাহ করা প্রায় সব পণ্যই ফেরত নেয় জেএমআই গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড।

জানা গেছে, দেশে অসংখ্য মেডিকেল ডিভাইস ব্যবহার করা হলেও হাতে গোনা কয়েকটি ডিভাইস জেএমআই তৈরি করছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মেডিকেল ডিভাইস আমদানির চেষ্টা করলে জেএমআই ওষুধ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের মাধ্যমে তা আমদানিতে নিরুৎসাহী করে। ওষুধ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় জেএমআই বহু অনৈতিক সুবিধা আদায় করে। তাদের তৈরি নি¤œমানের সিরিঞ্জ এককভাবে সরকারি হাসপাতালগুলোয় ব্যবহার হয়ে আসছে।   

এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তখন সিএমএসডি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘কভিড-১৯ বৈশ্বিক দুর্যোগকালে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ক্রয় আইন অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। অথচ বিভ্রান্তিমূলকভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে, স্বাস্থ্যসেবা সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জড়িয়ে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সিএমএসডি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় চলতে চায়, এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গের কোনো সংশ্লেষ নেই এবং তাদের আর্থিক বা অন্যান্যভাবে লাভবান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ পরে দুদক তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে মামলা করে।

Share on your Social Media