Analyst Forum

বোনাস শেয়ার কী?

Posted By : iftekhar    April 15, 2019   

image not available

বোনাস শেয়ার কী?

কোম্পানির মুনাফা (প্রফিট) হলে তার থেকে শেয়ারহোল্ডারদেরকে ডিভিডেন্ড দেওয়া হয়। ভালো কোম্পানি সব সময় প্রতিবছর ভালো ডিভিডেন্ড দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে। কোনো কোম্পানির মুনাফা হওয়া মানে নগদ টাকা হাতে থাকা বোঝায় না। গ্রোয়িং কোম্পানির মুনাফার টাকা সাধারণত কলকব্জা, দালান-কোঠা বা কাঁচামালে বিনিয়োগ হয়ে যায়। পরিচালকগণ যদি মনে করেন বিনিয়োগ ব্যাহত করা যাবে না এমতাবস্থায় শেয়ারহোল্ডারদেরকে নগদ ডিভিডেন্ড না দিয়ে সমপরিমাণ টাকার শেয়ার দিলে তাকে বোনাস শেয়ার বলে। নগদ ডিভিডেন্ড দিলে কোম্পানির সম্পদ কমে যায়। কিন্তু বোনাস শেয়ার দিলে কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ ঠিক থাকে,পরিশোধিত মূলধন বেড়ে যায় এর ফলে ভবিষ্যতে ডিভিডেন্ড দায়ও বেড়ে যাবে। আমাদের দেশে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া মূলধন সীমা অর্জন করার জন্য বোনাস শেয়ার দিতে অনেকটা বাধ্য। ক্যাশ ডিভিডেন্ড থেকে বোনাস শেয়ার দেওয়ার সম্ভাবনা থাকলে শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারী বোনাস শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা পেতে পারেন। ২০০৫ সালে ৪৬টি কোম্পানি, ২০০৭ - ২০০৮ সালে ৭১টি কোম্পানি এবং ২০০৮-২০০৯ সালে ১০১টি কোম্পানি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল। বোনাস শেয়ারবাজারে সরবরাহ বাড়ায়। বোনাস শেয়ার দেওয়ার ফলে ২০০৮ সালের ১৪,৪১৮.৮২ মিলিয়ন টাকা এবং ২০০৯ সালে ১৮,৫৩৪.৭৭ মিলিয়ন টাকা পরিশোধিত মূলধন বাড়ে। যে হারে আমাদের পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলো বোনাস শেয়ার দিতে দেখা যায় এতে করে বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মনে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

যেকোন কোম্পানি নগদ অর্থ না দিয়ে শেয়ার হোল্ডারদেরকে তাদের হাতে থাকা শেয়ারের বিপরীতে নতুন শেয়ারের মালিকানা অর্থাৎ যে শেয়ার সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে তাকে বোনস শেয়ার বলে।  উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো পরিস্কার হবে। ধরাযাক একজন বিনিয়োগকারীর হাতে ১০০টি শেয়ার আছে, সে কোম্পানি যদি ১০% বোনাস দেয় তাহলে উক্ত বিনিয়োগকারীর শেয়ারের সংখ্যা হবে ১১০টি। মূলত বোনাস শেয়ার মানে লভ্যাংশ বিতরণ। লভ্যাংশ নগদ বা বোনাস শেয়ার আকারে বিতরণ করা হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতিষ্ঠিত পুরাতন কোম্পানি এবং বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানি নগদ লভ্যাংশ বেশী দিয়ে থাকে। যে সকল কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের জন্য অর্থের প্রয়োজন অর্থাৎ ব্যবসা বাড়ানোর জন্য দালান কোঠা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ক্রয়ের প্রয়োজন পরে, সে সকল কোম্পানি স্বাধারণত নগদ  লভ্যাংশ না দিয়ে বোনাস শেয়ার দিয়ে থাকে। ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি, ফিনানসিয়াল কোম্পানি এবং ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর বেলায় রেগুলেটরদের বেঁধে দেওয়া পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে বোনাস শেয়ার দিতে বাধ্য থাকে। বাজার যখন উধর্ক্ষমূখী থাকে তখন বোনাস শেয়ার ইস্যুর সম্ভাবনা থাকলে শেয়ারের দর বেড়ে যায়।

দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে কিছু কিছু ইস্যুয়ার বছরের পর বছর বোনাস শেয়ার দিতে দেখা যায়। এসব কোম্পানির বোনাস শেয়ার ইস্যু সন্দেহের চোখে দেখা উচিৎ। এমনও হতে পারে নানা অপকৌশল অবলম্বন করে অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়ে বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হয়। এবং উদ্যোক্তাদের হাতে আসা বোনাস শেয়ার বিক্রয় করে অনৈতিক ভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। নিকট অতীতে দেখা গেছে কিছু নতুন ইস্যুয়ার তাদের  লক করা শেয়ারের বিপরীতে বোনাস শেয়ার ইস্যু করে বিএসইসি এর লকিং পদ্ধতিকে ভুলুন্ঠিত করেছেন। বর্তমানে উদ্যোক্তাদের বোনাস শেয়ারেও লকিং চালু করা হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞগন মনে করেন দূর্বল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে বোনাস শেয়ারের লকিং মেয়াদ প্রথম দিকে আরো দীর্ঘ করা উচিৎ। ১ম থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বোনাস শেয়ারের বিপরীতে দীর্ঘ মেয়াদে লকিং প্রথা বিবেচনা করা যেতে পারে। ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির ক্ষেত্রে বোনাস শেয়ার দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নি্েত হয়। কিন্তু অন্যান্য লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে অডিট কমিটি অথবা স্বতন্ত্র^ নিরীক্ষককে বোনাস শেয়ার ইস্যু করার যথার্ততা নিরুপনের দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। যেসকল কোম্পানি এক নাগাড়ে বোনাস দেয় তাদের হিসাব সঠিক কিনা তাহা খতিয়ে দেখা উচিৎ।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, এফসিএমএ

প্রাক্তন সভাপতি(১৯৯৫)আইসিএমএবি

ব্যবস্থাপনা পরিচালক,

আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

ঢাকা স্টক একচেঞ্জ ট্রেক নং-১০৬,

চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জ ট্রেক নং-০০৫,

লেখক: শেয়ার বাজার জিজ্ঞাসা

֩ Comments (0)

No comments, be the first who add

Administrator

Close Name:

Password:

Add Comment

Close       
     
-
-


B I U URL    :) :( :P :D :S :O :=) :|H :X :-*

Add this verification code:   6ea2a



Analyst Forum