Analyst Forum

ডিভিডেন্ড কী?

Posted By : iftekhar    April 14, 2019   

image not available

ডিভিডেন্ড কী?

কোন কোম্পানি তার করপূর্ব মুনাফা থেকে শ্রমিকদের জন্য ৫% হারে প্রযোজ্য লভ্যাংশ বাদ দেওয়ার পর যে মুনাফা অবশিষ্ট থাকে তার থেকে সরকারকে দেওয়া প্রযোজ্য আয়কর বাদ দিলে যে মুনাফা দাড়ায় তাকে ট্যাক্সবাদ মুনাফা বলে। এই মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে যেটুকু বিতরণ করে তাকে ডিভিডেন্ড বলে। সাধারণত পূর্ববর্তী বছরের অবিলিকৃত মুনাফা থেকে লভ্যাংশ ঘোষনা করা যেতে পারে। লভ্যাংশ  ঘোষনা সব সময় পরিশোধিত মূলধনের উপর শতাংশ হারে প্রকাশ করা হয়।  প্রায় প্রতিদিন পত্রিকায় কোনো না কোনো কোম্পানির ডিভিডেন্ডের হার ঘোষণা দেখতে পাওয়া যায়। ডিভিডেন্ড নগদ টাকা না দিয়ে নতুন শেয়ার আকারে দিলে তাকে স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার বলে। ডিভিডেন্ডের হার শেয়ারের ফেস ভ্যালুর উপর হিসাব করা হয়। কোন বিনিয়োগকারী ১০ টাকার ফেস ভ্যালুর শেয়ার ২০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করলে তিনি ডিভিডেন্ড পাবেন ১০ টাকার উপর। কোম্পানি যদি ৩০% ডিভিডেন্ড দেওয়ার ঘোষণা দেয় তাহলে ঐ বিনিয়োগকারী পাবেন ৩ টাকা। তার বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগের উপর আয় হবে শতকরা ১.৫ টাকা (৩/২০০ঢ১০০=১.৫%)

নিম্নে  ২০১৭-এর খাতওয়ারি ডিভিডেন্ড-এর একটি পরিসংখ্যান তুলে দেওয়া হলো। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত শক্তিশালী। এ ব্যাপারে ব্যাংকের প্রশাসন ও বাংলাদেশ ব্যাংক কৃতিত্বের দাবি করতে পারে।

খাত

মোট কোম্পানির সংখ্যা

ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানির সংখ্যা

%

ব্যাংক

৩০

২২

৭৩%

ফিনানসিয়াল ইনস

২৩

১৩

৫৭%

মিউচ্যুয়াল ফন্ড

৩৫

২২

৬৩%

সিমেন্ট

১০০%

সিরামিক্স

৬০%

ইঞ্জিনিয়ারিং

৩৩

২৩

৭০%

খাদ্য

১৮

১১%

জ্বালানী ও শক্তি

১৮

১৬

৮৯%

বীমা

৪৭

২৩

৪৯%

টেলিকমিউনিকেশন

১০০%

আইটি

৫৭%

পাট

৬৭%

কাগজ

৫০%

ঔষধ

২৮

২২

৭৯%

সেবা ও রিয়েল এস্টেট

৭৫%

ফিনানসিয়াল ইনস

২৩

১৩

৫৭%

মিউচ্যুয়াল ফন্ড

৩৫

২২

৬৩%

সিমেন্ট

১০০%

সিরামিক্স

৬০%

ইঞ্জিনিয়ারিং

৩৩

২৩

৭০%

সূত্র : মাসিক রিভিউ ডিএসই জুন-২০১৭। 

ফ্র্যাকশনাল ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট কাকে বলে?

ফ্র্যাকশন্যাল ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট-এর অর্থ বোনাস শেয়ারের আংশিক মালিকানা। কোনো কোম্পানি যখন বোনাস শেয়ার দেয় তখন কারো শেয়ারের বিপরীতে যদি পুরো একটি শেয়ার ঘোষিত হারে না আসে তাহলে সকল বিনিয়োগকারীর ভাঙ্গা অংশগুলোকে একত্র করে বাজারে বিক্রয় করে দেয় বিক্রয়কৃত টাকা মালিকানার অংশ হারে নগদ/বিইএফটিএন এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। একেই ফ্যাকশনাল শেয়ার ডিভিডেন্ডে ওয়ারেন্ট বলে। একজন বিনিয়োগকারীর যদি ১৪টি শেয়ার থাকে এবং কোম্পানি যদি ৩:১ বি হারে বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে ঐ বিনিয়োগকারীর প্রাপ্য বোনাস ৪.৬৬ শেয়ার। সেক্ষেত্রে কোম্পানি দশমিক ’৬৬ শেয়ারের বিক্রয় অর্থ বিনিয়োগকারীকে দিবেন। একেই ফ্যাকশনাল ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট বলা হয়। বোনাস শেয়ারের রেকর্ড ডেট ঘোষিত হলে বিনিয়োগকারীর উচিত কয়েকটি শেয়ার ক্রয় করে বা বিক্রয় করে পূর্ণ শেয়ার বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা। আলোচ্য ক্ষেত্রে একটি শেয়ার ক্রয় করলে ৫টি বোনাস শেয়ার পাওয়া যেতো। প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর উচিত বোনাস বা রাইট ঘোষিত হলে নিজের পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ারকে পূর্ণ বোনাস/রাইট শেয়ার পাওয়ার জন্য মিলিয়ে নেওয়া। তাহলে লাভ বেশি হবে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় কোম্পানি  ফ্যাকশন্যাল ডিভিডেন্ডের শেয়ার কমদামে বিক্রি করে।

অন্তর্বর্তীকালীন ডিভিডেন্ড বলতে কী বোঝায়?

যদি কোনো কোম্পানি মনে করে তার লাভ খুব ভালো হচ্ছে এবং হাতে নগদ অর্থ জমা আছে, এই নগদ অর্থ পুনঃ বিনিয়োগ করার তেমন ভালো সুযোগ নেই, এমতাবস্থায় কোম্পানির বোর্ড বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) অনুমোদন সাপেক্ষে লাভের যে অংশ বছর শেষ হওয়ার পূর্বে ডিভিডেন্ড হিসেবে দেয় তাকে অন্তর্বর্তীকালীন ডিভিডেন্ড বলে। বাটা সু, জিপি, লাফার্জ সুরমা, বাংলাদেশ অক্সিজেন, সিঙ্গার কয়েকবার অন্তর্বর্তীকালীন ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। এগুলো ভালো কোম্পানি এবং ভালো ব্যবস্থাপনার লক্ষণ। সাধারণত বিদেশী কোম্পানিগুলো অন্তর্বর্তীকালীন ডিভিডেন্ড দিয়ে লাভের টাকা দেশ থেকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যায়। ইদানিং কিছুকিছু লোকাল কোম্পানিকেও অন্তর্বর্তীকালীন ডিভিডেন্ড দিতে দেখা যায়। অনেক সময় শেয়ারের বাজার দর কমে গেলে  অন্তর্বর্তীকালীন ডিভিডেন্ড দিয়ে বাজারকে চাঁঙ্গা রাখতে দেখা যায়।

ডিভিডেন্ড-এর টাকা কত দিনে এবং কিভাবে বিনিয়োগকারীর হাতে পৌছায়?

পরিচালকদের সভায় প্রস্তাবিত ডিভিডেন্ড বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত হলে সাধারণ সভার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার আইন রয়েছে। ডিভিডেন্ড অ্যাকাউন্ট পে-ই চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করার নিয়ম। এই চেক-কে ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট বলে। বার্ষিক সাধারণ সভার পরে কোম্পানি ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট কিভাবে বিতরণ করা হবে তার ঘোষণা দিয়ে থাকেন। কোম্পানির অফিস থেকে সরাসরি ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট বিতরণ করে থাকেন। ডিভিডেন্ড বিতরন নিয়মকানুনে বেশকিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। বেশীর ভাগ কোম্পানির ক্ষেত্রে নগদ ডিভিডেন্ডের টাকা বিইএফটিএন এর মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীর হিসেবে জমা করা হয়। একইভাবে স্টক ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীর সিডিবিএল অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। কোন বিনিয়োগকারীর ১৩ ডিজিট ব্যাংক হিসাব নং এবং রাউটিং নং ভুল থাকলে তার হিসেবে বিইএফটিএন এর মাধ্যমে টাকা জমা হবেনা। বিনিয়োগকারীর উচিৎ রেকর্ড ডেট ঘোষিত হলে ব্রোকার হাউজে যোগাযোগ করে তার অ্যাকাউন্ট নং এবং রাউটিং নং ঠিক আছে কিনা জেনে ঠিক করে নেয়া।

ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবে জমা করতে হয়। সকল বিনিয়োগকারীর রেকর্ড ডেট-এ তার হিসাবে থাকা শেয়ারের ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট পেয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কারণে না পেয়ে থাকলে ব্রোকার হাউস থেকে কোম্পানির প্রধান অফিসের ঠিকানা নিয়ে কোম্পানি সচিবের বরাবরে চিঠি লিখে ফেরত যাওয়া ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে পারে। বিনিয়োগকারীর ব্যাংক শাখায় ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীর বিও-তে দেওয়া যোগাযোগের ঠিকানায় ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট প্রেরিত হয়। বিনিয়োগকারীর কোনো কারণে ঠিকানা পরিবর্তন হলে তা লিখিতভাবে ব্রোকার হাউসকে জানানো উচিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতিটি কোম্পানির কাছে অবিলিকৃত ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্টের পরিমাণ লক্ষ লক্ষ টাকা। এর সবগুলোই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের টাকা। ১০০% বিনিয়োগকারী Cash Dividend পেয়েছেন কিনা তাহা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, এফসিএমএ

প্রাক্তন সভাপতি(১৯৯৫)আইসিএমএবি

ব্যবস্থাপনা পরিচালক,

আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

ঢাকা স্টক একচেঞ্জ ট্রেক নং-১০৬,

চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জ ট্রেক নং-০০৫,

লেখক: শেয়ার বাজার জিজ্ঞাসা

Analyst Forum

April 18, 2019

বুলিশ বিয়ার মার্কেট কি

বুলিশ বিয়ার মার্কেট কি?

অধিক সংখ্যক শেয়ারের দর যখন ক্রমাগত কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকে, তখনকার ব More 

April 18, 2019

শেয়ারে বিনিয়োগে কি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন

শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হলে কি কি ধরনের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন?

শেয়ারবাজার সম্বন্ধে প্রাথমিক ধারণ More 

April 18, 2019

মৃত ব্যক্তির শেয়ার মালিকানা

কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার নামে থাকা শেয়ারের মালিক কে হবেন?

বর্তমানে শেয়ার দুই অবস্থাতে থা More 

April 18, 2019

শেয়ার দিয়ে মোহরানা পরিশোধ

শেয়ার দিয়ে কি কাবিননামার মোহরানা শোধ করা যাবে?

মুসলিম ব্যক্তিদেরকে অবশ্যই কাবিননামায় উল্ More 

April 17, 2019

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রবৃদ্ধি

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রবৃদ্ধি কেমন?

লিস্টেড কোম্পানির সংখ্যা, লিস্টেড সিকি More 

April 17, 2019

কালোবাজারীর শেয়ারবাজার কি উন্মুক্ত

কালোবাজারী এবং ঋণ খেলাপিদের জন্য শেয়ারবাজার কি উন্মুক্ত?

কালোবাজারী এবং ঋণ খেলা More 

April 17, 2019

মূল্য সংবেদনশীল তথ্য

মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন) কাকে বলে? কি কারণে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য জাতীয় More 

April 17, 2019

সঞ্চয় কি? গুরুত্ব কতটুকু

সঞ্চয় কি? সঞ্চয় আয় ও ব্যয়ের উদ্বৃত্ত নাকি ব্যয়ের অংশবিশেষ?

সঞ্চয়ের সংজ্ঞা কি? সাধারণভাবে কো More 

April 17, 2019

ডাইরেক্ট লিস্টিং শেয়ার কি?

সরাসরি তালিকাভুক্তি (ডাইরেক্ট লিস্টিং) বলতে কী বোঝায়? এর সুবিধা কী কী? প্রাইভেট সেক্টরের জন্য More 

April 17, 2019

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও ব্যাংক ঋণ

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা আছে কি?

আইন থাকা সত্ত্বেও শেয়ারবাজারে ক More