Analyst Forum

বাংলাদেশে বীমা খাতের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ

Posted By : iftekhar    October 19, 2019   

image not available

বাংলাদেশে বীমা খাতের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কেমন?

আমাদের দেশে বীমা খাত সম্ভাবনাময়। বাজার অর্থনীতিতে বীমা খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা বানিজ্যের প্রবৃদ্ধির সাথে সাধারণ বীমা সরাসরি সম্পৃক্ত। মাথা পিছু গড় আয়, শিক্ষার হার, স্বাস্থ্য সচেতনতা ইত্যাদির সাথে জীবন বীমার সম্পৃক্ততা থাকে। এসব মানদন্ডে আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সাথে বীমা খাতের অগ্রগতি   সন্তোষজনক নয়। এর জন্য দুর্বল রেগুলেটরি ব্যবস্থাই দ্বায়ী। আমাদের উন্নয়ন সহযোগিদের সহযোগিতায় অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে বীমা আইন-২০১০ পাস হয়। দীর্ঘ চড়াই উত্রাই এর মধ্য দিয়ে বীমা নিয়ন্ত্রন সংস্থা ইন্স্যুরেন্স ডেভলোপমেন্ট রেগুলেটরী অথোরেটি (আডিআরএ) কার্যক্রম শুরু করে। ইতিমধ্যে তারা অনেকগুলো বিধিমালা, প্রবিধিমালা, প্রনয়ন করে। এইসকল বিধিমালা ও প্রবিধিমালা বাস্তবায়ন হলে বীমাখাতে উন্নয়ন প্রত্যাশা করা যায়। দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে হলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠ্যক্রমে বীমা শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। আমাদের আলোচ্য বিষয় বীমা খাতের লিস্টেড কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগে লাভের সম্ভাবনা ও ঝুকির ধরণ ইত্যাদিতে সীমাবদ্ধ রাখা। উল্লেখ করা প্রয়োজন বীমা খাতের লিস্টেড ও ননলিস্টেড কোম্পানির প্রাথমিক রেগুলেটরী আইডিআরএ এবং দ্বিতীয় রেগুলেটরী হলো বিএসইসি। ব্যাংক এবং ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ডুয়েল রেগুলেটরের মধ্যে আছে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রথম রেগুলেটরী বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দ্বিতীয় বিএসইসি। বর্তমানে বীমা খাতে ৭৮ টি কোম্পানি আছে। তার মধ্যে লিস্টেড কোম্পানির সংখ্যা ৪৭টি। লিস্টেড কোম্পানির ১২টি জীবন বীমার এবং ৩৫টি সাধারণ বীমা খাতের।

 

বীমা খাতের অবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়না। সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য আইনি কাঠামো ও রেগুলেটরী অথোরেটি ছিলনা। অর্থনীতিতে বীমা ক্ষেত্রের অবদানের কথা মাথায় রেখে বীমা সেক্টরের সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সব সেক্টরে গভীরভাবে প্রবেশ করে সমাজের উচ্চাকাঙ্খা গড়ে তোলার জন্য একটি কার্যকর কর্পোরেট সেক্টর এবং পুঁজি বাজারকে কেন্দ্র করে বীমা শিল্পটি প্রিমিয়ার আর্থিক পরিসেবা প্রধানকারীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, নীতিমালা অনুসারে পলিসি হোল্ডার এবং অন্যান্য স্টোকহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা, বীমা শিল্পকে কার্যকর ভাবে তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রন করা, বীমা শিল্পের সুশৃঙ্খল ও নিয়মানুগ বৃদ্ধির লক্ষে এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলি বা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিশ্চিত করাই হলো আইডিআরএ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

আমাদের দেশে বীমা খাতে দেশের কোম্পানিগুলো এবং আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স (বর্তমানে মেটলাইফ) ছিল। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান লাইফ দেশের বীমা সেক্টরে যুক্ত হয়েছে। বিদেশী কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের এই স্বল্প আয়তনের দেশে ৭৮ টি বীমা কোম্পানি কোনভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। এগুলোকে কমিয়ে সাধারণ বীমা খাতে ৫টি এবং জীবন বীমা খাতে ৫টি কোম্পানি থাকলে বিদেশী কোম্পানির সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে। বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতিতে বর্তমানে ৫৬টি ব্যাংক চালু আছে। আমাদের দেশে এতোগুলো ব্যাংকের প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে অনেক আগে থেকেই মতভেদ রয়েছে। ঠিক তেমনি বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রেও তাই। ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়িয়ে আছে গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে । সম্ভাবনাময় এ সেক্টরটির প্রতি  রেগুলেটরী অথরেটির আরো বেশি নজরদারী প্রয়োজন। নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদনে রাজনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত না হয়ে অর্থনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হওয়া উচিৎ।

উপরের তালিকায় দেখা যায় জীবন বীমা খাতের একটি কোম্পানির পেইড-আপ কেপিটাল ১২.৯০ কোটি টাকা নিয়ে পুঁজিবাজারের তালিকাভূক্ত হয়েছেন। এসব কোম্পানি কখন বাজার থেকে উধাও হয়ে যাবে তা বলা যায় না। তখন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অবস্থা কি হবে? রাজনৈতিক স্বার্থে বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এদের অনেকেই বিভিন্ন শিল্পগ্র“পকে ব্যবসায়ীক স্বার্থ সহ উদ্যোক্তা বানিয়েছেন। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা শুরুতেই বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। জীবন বীমার ক্ষেত্রে ৩০টি কোম্পানির পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১২টি তালিকাভূক্ত হয়েছে যার মধ্যে জেড ক্যাটাগরিতে ৩টি কোম্পানিই রুগ্ন। প্রোফিট না থাকার কারণে বাকি ১৮টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হতে পারছেনা। অনেকে মনে করেন দূর্বল রেগুলেটরী ব্যবস্থাই এসবের জন্য দায়ী। আবার রেগুলেটরী কর্তৃপক্ষ বলছে লোকবলের কারণে তদারকী করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের মতে ৫৬ টি ব্যাংককে নিয়ন্ত্রন করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং তাদের লোকবল অনেক বেশী। সে হিসেবে বীমা সেক্টরের ৭৮টি কোম্পানি তদারকি করার জন্য লোকবল অনেক কম। দক্ষ লোকবল নিয়োগ করে রেগুলেটরী কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ের প্রতি কঠোর নজরদারি করলে বীমা খাতের উন্নয়ন সম্ভব। বীম কোম্পানিগুলো ত্রৈমাসিক আথিক প্রতিবেদনে তাদের বীমার দাবীর সংখ্যা, টাকার পরিমান, এর মধ্যে দাবী সেটেলমেন্টের সংখ্যা এবং কত পেন্ডিং আছে তা উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।

 

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, এফসিএমএ

প্রাক্তন সভাপতি(১৯৯৫)আইসিএমএবি

ব্যবস্থাপনা পরিচালক,

আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

ঢাকা স্টক একচেঞ্জ ট্রেক নং-১০৬,

চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জ ট্রেক নং-০০৫,

লেখক: শেয়ার বাজার জিজ্ঞাসা

֩ Comments (0)

No comments, be the first who add

Administrator

Close Name:

Password:

Add Comment

Close       
     
-
-


B I U URL    :) :( :P :D :S :O :=) :|H :X :-*

Add this verification code:   bd1d9



Analyst Forum